ফুডে পড়ে চাকুরি করেন কিসে? ভর্তির সময় বুলি-পাশ করলে সব ভুলি!!!!!!

কে আর ইসলামঃ অভিজ্ঞতা থেকে লিখা- দেশে ক্রমবর্ধমান বেকার সমস্যার মাঝে কোন বিষয় নিয়ে পড়লে চাকুরি পাওয়া যাবে তা অনেকেই আন্দাজ করতে পারেনা। খাদ্য শিল্পে লোকজন নিয়োগ হলেও অনেক ক্ষেত্রে স্কিলড জনবল পাওয়া মুশকিল। তাই সেই উদ্দেশ্যেই আমাদের এই মতামত। পাবলিক ভার্সিটির শিক্ষার্থীরা পাস করার পর বিভিন্ন রিসার্চ, দেশ বিদেশে উচ্চতর ডিগ্রি, সেমিনার, প্রফেশনাল কোর্স করা নিয়ে ব্যস্ত। স্মার্ট বেতনে মাল্টিন্যাশনাল কম্পানিতে চাকুরি নিচ্ছে, তারা দেখে সামনে অপার সম্ভবনা।

ঠিক তখনই আমাদের প্রাইভেট ভার্সিটির ভাই বোনেরা ৩-৪ বছর কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে, নাম না জানা, দেশি নিচুমানের কম্পানিতে জব নিয়ে লড়াই করে (কিছু সংখ্যক ট্যালেন্ট ছাড়া)।  ব্যস্ত থাকে পিকনিক, আড্ডা বাজি, বনভোজন নিয়ে হেলায় সময় ফেলায়। দেশে পাইভেট ভার্সিটির যেখানে খাদ্য বিষয়ে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ আছে তার দুটি থেকে এখন শিক্ষার্থী বিএসসি ডিগ্রি নিয়ে বের হচ্ছেন। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারগন বেশিরভাগ চাকুরিরত অবস্থায় বিএসসিতে ভর্তি হয়। আর যারা জেনারেল থেকে পাশ করে ভর্তি হয় তাদের ক্ষেত্রে চাকুরিতে ঢোকা একটু চ্যালেঞ্জের বটে। কারণ হিসেবে দেখা গেছে এদের টেকনিক্যাল নলেজ পাবলিক ভার্সিটি ও ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের চেয়ে কম। কারণ হল এইসব ভার্সিটি টাকার বিনিময়ে কোন প্রকার ল্যাব ফেসিলিটি ছাড়াই ডিগ্রি কমপ্লিট করায়। এসব ভার্সিটি থেকে পাশ করা অনেকেই এটা আন্দাজ ও আফসোস করেন যখন তারা শিল্প ক্ষেত্রে ইন্টার্নী করতে যান তখন। পাশ করার পর গতি না দেখে এদের অনেকে চাকুরি নিচ্ছে বা নিয়েছে সেলসম্যান, কাস্টমার কেয়ার, প্রমোটর হিসেবে। এইসবতো মার্কেটিং বা সেলস জব তাহলে ৪ বছর ফুডে অনার্স, ১.৫ বছর মাস্টার্স না করে মার্কেটিংএ কেন পড়েনা।

ISO 22000 HACCP Course এর জন্য ক্লিক করুন

ভর্তির আগে এবং প্রথমে এদের মগজ ধোলাই করা হয় বড় বড় কোম্পানিতে যারা আমাদের আইকন আছেন তাদের কথা বলে। পাশ করার পর শিক্ষকদের কাছে গেলে উনারা নাকি চিনতেই চান না। শুনান আশার বুলি ট্রাই কর চাকুরি হয়ে যাবে। অই যে আইকনদের কথা বলা হয় তাদের কাছে আর তারা কয়জন পৌছতে পারেন। টিচাররা তাদের পরিচয়দেন কিন্তু খবর আর নেয় না। তাই সবার জন্য পাশে আছে ফিয়াব ফাউন্ডেশন

আর টিচারদের কথে কি বলব, কোন টিচারেরই কোন শিল্প ক্ষেত্রে ফুড প্রসেসিং এর কোন অভিজ্ঞতাই নেই। পাবলিক থেকে ভাল ফলাফল নিয়ে পাশ করে এসেই পেয়ে যান প্রভাষকের চাকুরি। নিজে কি শিখেছেন আর পরাবেনই বা কি? অথছ সিনিয়র আইকনদের নিয়ে তারা গেস্ট লেকচারার হিসেবে ক্লাস নেয়াতে পারেন। করতে পারেন ভাল ভাল প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা। কিন্তু সবারই হল পেট-নীতি, অন্যের কথা ভাবার সময় নাই। সে ই হিসেবে গত বছর চালু হওয়া নতুন একটি ভার্সিটি অনেক এগিয়ে তারা আইকনদের দিয়ে ক্লাস নেবার কথা ভাবছেন। তাদের রয়েছে ফার্মগেট এবং মানিকগঞ্জে  স্থায়ী ক্যাম্পাস।

আফসোস লাগে যখন ইন্টারনিতে যখন টিচাররা সহযোগিতা করে না। বড় কথা সিনিয়রদের কোনদিন ভার্সিটি থেকে ফোনও করেনা হাতে গোনা ৩-৪ জনকে ছাড়া। এখনকার বাজারে রেফারেন্স ছাড়া চাকুরি সোনার হরিণ নয় বরং হিরক হরিণ। তাই ভাবুন আপনার ভবিষ্যৎ আপনি কিভাবে গড়বেন। বাকিটা ইতিহাস। দিকনির্দেশনার জন্য এই লিখাটি সম্পূর্ণ অভিজ্ঞতা থেকে লিখা।

Leave a comment

Your email address will not be published.


*